শিশু মৃ'ত্যু'র ঘটনায় ২ মাস পর হ'ত্যা মা'ম'লা, গ্রে'প্তা'র ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
আড়াইহাজারের কুমারবাগ গ্রামে পুকুর থেকে দেড় বছর বয়সী শিশু মার্জিয়া আক্তার মাইশার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই মাস পর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিশু বাবা মাইদুল বাদী হয়ে রোববার রাতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার ভোরে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- মোছা. শিউলি (৩৫), মো. আতিকুল কাজী (৩২), মো. শান্ত কাজী (২৩) ও মো. হাবিব কাজী (২১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেলে কুমারবাগ এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল মাইদুলের দুই মেয়ে মীম আক্তার ও মার্জিয়া আক্তার মাইশা। কিছুক্ষণ পর মাইশার মা মরিয়ম বেগম ঘরে কাজ শেষে ফিরে এসে ছোট মেয়ে মাইশাকে দেখতে পাননি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। শিশুটিকে না পেয়ে বাবা মাইদুল আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর দুদিন পর গত ২২ জুন সকালে বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় শিশুর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রথমে আড়াইহাজার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। সম্প্রতি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিশুটির মাথায় আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ ও এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করা হয়। এরপর ঘটনার দুই মাস পর রোববার রাতে ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে আসামিরা শিশুটিকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, ‘তদন্তের প্রতিবেদনে শিশুটির মাথায় আঘাতজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’